শুল্ক বিবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান ৯০ দিনের বিরতির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে আজ। তবে তা বাড়ানো হবে কিনা এ নিয়ে শেষ মুহূর্তেও অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। বাণিজ্য চুক্তি বিষয়ে সর্বশেষ বৈঠকের পর চীন আশাবাদী মনোভাব প্রকাশ করলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তরফে স্পষ্ট ইঙ্গিত আসেনি। শুল্ক বিবাদে বিরতির মেয়াদ বাড়বে কিনা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সে সিদ্ধান্ত তিনিই দেবেন। এতে বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। খবর সিএনবিসি।
গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন ৯০ দিনের জন্য শুল্ক বিবাদে বিরতি দিতে সম্মত হয়। এর আওতায় এপ্রিলে চীনা পণ্যের ওপর চাপিয়ে দেয়া ১৪৫ শতাংশ শুল্কহার কমানো হয় এবং কয়েকটি শাস্তিমূলক পদক্ষেপ স্থগিত রাখা হয়। ওই সমঝোতার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আজ।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রমুখী চীনা পণ্যে ২০ শতাংশ ফেন্টানিল–সম্পর্কিত শুল্ক, ১০ শতাংশ বেজলাইন শুল্ক ও ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে আরোপিত ২৫ শতাংশ শুল্ক বহাল রয়েছে। অন্যদিকে চীনমুখী মার্কিন পণ্যে আরোপিত শুল্কের গড় হার ৩২ দশমিক ৬ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুল্ক বিবাদে বিরতি বাড়ানো হলে তা ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে সম্ভাব্য বৈঠকের পথ তৈরি করবে। এতে দুই দেশের সম্পর্ক আপাতদৃষ্টিতে কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে। তবে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা কম।
বর্তমান বৈশ্বিক বাণিজ্য ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন কাঠামোগতভাবে ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
শুল্ক বিবাদে বিরতির মধ্যেও দুই দেশের বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চীনের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রমুখী রফতানি টানা চতুর্থ মাসের মতো কমে গেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ দশমিক ৭ শতাংশ কম। একই সময় যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনের আমদানিও কমেছে ১০ দশমিক ৩ শতাংশ। সম্ভাব্য নতুন বাণিজ্য চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি ও জ্বালানি পণ্য এবং অনুমতিসাপেক্ষে সেমিকন্ডাক্টর ও চিপ তৈরির যন্ত্রপাতি কেনার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে চীন।
এছাড়া সেমিকন্ডাক্টর রফতানি নিয়ন্ত্রণ, বিরল ধাতু রফতানি ও রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কেনা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কেনায় ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ভারতের ওপর শুল্ক দ্বিগুণ করেছেন এবং চীনের ক্ষেত্রেও একই পদক্ষেপ নেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শুল্ক বিবাদে বিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা শুধু দুই দেশের জন্য নয়, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও সরবরাহ চেইনেও চাপ বাড়াচ্ছে। ফলে যে সিদ্ধান্তই নেয়া হোক না কেন তা আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলবে।